জীবন সুন্দর হয়ে উঠবে সুনিশ্চিত।

-------------- নোয়াবালি

কথা হজম করতে শিখুন। অযথা তর্কে না গিয়ে অপরকে জিতিয়ে দিন অবলীলায়। যদি কথাটির বদহজমের হয়, তবে তার হবে যে আপনাকে কথাটি বলেছে। বাকবিতন্ডা না করে আপনি পরাজয় স্বীকার করে নিন। পরাজয়েও এক ধরনের বীরত্ব আছে। ব্যক্তি জীবন, সংসার জীবন, সমাজ জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন সর্বত্রই একই নীতি অনুসরণ করুন। দেখবেন ক্রমে আপনার সদ গুনটির জন্য বিজয়ী হতে শুরু করেছেন। তর্ক মুর্খেরাই করে। একটা কথা আছে, “পরাজয়ে ডরে না বীর”। যেকোনো তর্কে আপনি হার স্বীকার করে নিন। আপনার প্রতিদ্বন্ধীকে জিততে দিন। প্রতিদ্বন্ধীর কথা যদি খুবই তীর্যকও হয়, এড়িয়ে যান। এক সময় না এক সময় তাকে অনুতপ্ত হতে হবেই। কম কথা বলুন। তাতে ভুল হবার সম্ভাবনা কম।

ভেবে দেখুন একবার, বিশ্বের সকল মহামানবই খুব কম কথা বলতেন। মহামানবদের কেউ বাচাল ছিলেন না। তারা প্রাপ্ত তর্ক নিয়ে কথার পিটে কথা বলতেন না। বরং এর জন্য আশ্রয় নিতেন কলম ও ভাষার। বাংলার প্রতিষ্ঠিত সকল সাহিত্যিকই প্রায় এই কাজটি করতেন। কোনো গল্প, কবিতা বা উপন্যাসে তর্কটি অন্যের মুখ দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যে ওখানে বিজিতের বিজয় অনায়াসে ফুটে উঠত। জীবনে কিছুই পারেন না, অন্তত একজন মহামানবকে অনুসরণ করুন। দেখবেন, আপনার মধ্যে অনেক ভাল গুনাবলী জন্ম নিতে শুরু করেছে। একজন মানুষের পরিবর্তনে একটি পরিবার পরিবর্তিত হয়ে উঠতে পারে। একটি পরিবার পরিবর্তিত হলে একটি সমাজ পরিবর্তিত হতে পারে। আর সমাজ পরিবর্তন হলে দেশ বা জাতি পরিবর্তিত হতে বাধ্য। নিজেকে বড় মনে করবেন না। খুব ছোট সাধারণ একজন মানুষ ভাবতে শুরু করুন। মানসিকতা পরিবর্তন করুন। আপনার কর্ম এবং আচরণই আপনাকে বড় করে তুলবে।

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের স্ত্রী অত্যন্ত মুখরা ছিলেন। বিবাহিত জীবনে একটি দিনও সুখে কাটেনি। তবু তার সংসার টিকেছিল। তার স্ত্রী তাকে শারিরীকভাবে আঘাত পর্যন্ত করতেন, তবু তিনি কথার কড়া জবাব দিতেন না। পার্লামেন্টে কোনো এমপি তাকে বলেছিলেন, “আপনার বাবা ত জুতা সেলাই করতেন”। তিনি শুনে উত্তেজিত না হয়ে বরং তার বাবার কাজের প্রশংসা করে তার জুতার কোনো কাজ করানো লাগবে কিনা তা জানতে চেয়েছিলেন। লাগলে তিনি নিজে করে দেবেন। এও বলেছিলেন যে তিনি নিজে খুব ভাল জুতা সেলাই করতে পারেন। এরপর পার্লামেন্টে আর কেউ তাকে খাটো করে কোনো কথা বলতে পারেনি। কতটুকু বিনয়ী হলে মানুষ অমনটি হতে পারে ভেবে দেখুন। মানুষকে আঘাত দিয়ে বা তীর্যকভাবে কথা বলবেন না। আপনি বিনয়ী ও সদালাপী কেউ এই জীবনে চক্রান্ত করেও কিছু করতে পারবে না। মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। তিলকে তাল করা পরিহার করুন। ধর্মে বিশ্বাসী হলে আন্তরিকভাবে ধর্মকে আকড়ে ধরুন। আপনার মুখ ও অন্তরের কথা যেন একই হয়। সকল ধর্মগ্রন্থে, সকল জ্ঞান শাস্ত্রে মানুষকে কটু কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। জোর করে জিততে চাইবেন না। এই জেতার আনন্দ সাময়িক। যে মানুষটি আপনার সামনে পরাজয় স্বীকার করে গেল, সে আসলে পরাজিত হয়নি। সে জিতে গেছে আর অন্তরে আপনি পরাজিত হয়েছেন। শক্তিমত্তা প্রদর্শন আরো বাজে বিষয়। দেহের বল চিরকাল থাকে না। কিন্তু আপনার আচরণের সমালোচনা চিরকাল থাকবে। ভেবে দেখুন, অনেক মানুষ আছে যাদের মৃত্যুতে অপরিচিতরাও চোখের অশ্রু ফেলে আবার অনেক মানুষ এমন আছে, যাদের মৃত্যুতে অনেকে স্বস্থি পেয়েছে। এখন আপনি কোনটা বেচে নেবেন সে সিদ্ধান্ত আপনার। মৃত্যুর পরে কেউ আপনার বাজে সমালোচনা করুক এমনটি আপনি চাইবেন না। তাই সহিষ্ণু হোন, অপরের কথা হজম করতে শিখুন। নিজের মন ও মানসিকতা পরিবর্তন করুন।

Comments

Popular posts from this blog

বিরাজনীতিকরণের ফাঁদে বিএনপি: তারেক রহমান, ড. ইউনুস ও বিকল্প রাজনীতির সংকট

ফরাসি বিপ্লব ব্যবচ্ছেদ

হাসিনা সরকারের পতনের পরে সেনাবাহিনী প্রধান জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগে তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করে হাসিনা সরকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। তার সামগ্রিক ভুমিকা সুনিপুনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করুন।