গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ছোট্ট গল্পঃ

 

গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ছোট্ট গল্পঃ

                    


    -------------- মিজানুর রহমান

২০১৫ সাল। বৎসরের শেষের দিকে  গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সর্বত্র নির্বাচনী ডামাডোল। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে এবারকার চেয়ে বেশি উত্তেজনা ছিল। কেননা আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রতীকটি দেয়া হয়েছিল একজন ভুল মানুষকে। তবু মনে কষ্ট পেলেও মেনে নিলাম এ কারণে যে এটা আমার প্রিয় প্রতীক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীক।

ত এই বিশেষ প্রতীকের প্রার্থীকে আমি বিশেষভাবে জানতাম এবং এখনো জানি। প্রার্থীর প্রতি আমার আন্তরিকতা না থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম। তখনো প্রতীক বরাদ্দ হয়নি। তাই আচরণবিধি লংঘনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সম্ভবত তিন/চারদিন কয়েকটি পোস্ট দিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কারো সমালোচনা করি না বা এই বিষয়টি পছন্দও করিনা।

বা! হঠাৎ করেই ঐ প্রার্থীর ফোন পেলাম। তিনি বিশেষ সম্মোধনে আমাকে বললেন ঐ জাতীয় পোস্ট না দিতে। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। ঐ নির্বাচনে গোলাপগঞ্জের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, প্র্যাত মেয়র মরহুম সিরাজুল জব্বারও প্রার্থী ছিলেন। তাও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। কি কারণে যেন দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তবে তিনি আওয়ামীলীগের মূল্ধারার লোক এবং এলাকায় অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর বাড়ি আমার বাড়ির সীমানা লাগোয়া। মানে খুব নিকট প্রতিবেশী। তবু তাঁকে সমর্থন না করে ঐ বিশেষ প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলাম।

তারপর হতভম্ব আমি চিন্তা করলাম, ফেসবুকে কতজন কত কি লিখে প্রতিদিন। আর আমি সামান্য মানুষের সামান্য লেখায় বা পোস্টে ঐ বিশিষ্ট প্রার্থীর আচরণ বিধি লংঘনের ভয়!! আমি মুহুর্তে আমার সকল পোস্ট হাইড করে ফেললাম এবং ঐ প্রার্থীর প্রতি আমার ন্যুনতম সমর্থনও প্রত্যাহার করে নিলাম। মনকে এই বলে সান্ত্বণা দিলাম যে এই প্রার্থী বিজয়ের উপযুক্ত বা মেয়রের উপযুক্তই নয়। মানে ভিন্নভাবে শুরু করলাম প্র্যাত মেয়র সিরাজুল জব্বারের প্রচারণা। আমি জানতাম তিনি ২০১৫ সালের ফেভারিট প্রার্থী ছিলেন। তার প্রচারণা না করলেই চলবে। তবুও করলাম। অনেক অনেক। সবগুলো এখনো আছে। বাড়িতে গোপনে যেতাম এবং আমার প্রতি সহমর্মী অনেককে প্রয়াত মেয়র সিরাজুল জব্বারকে ভোট দেওয়াতে উদ্ভুদ্ধ করতে পেরেছিলাম। ঐ নির্বাচনে মরহুম সিরাজুল জব্বার প্রায় সকল কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিলেন।

তবে উভয় প্রার্থীর পোস্ট এখনো রয়েছে। একটি স্বনামে (লুকিয়ে রাখা) এবং অপরটি বেনামে। বেনামের পোস্টগুলো এখনো পাবলিক আছে। অনেকগুলো পোস্ট তিনি মারা যাবার পরে রিমুভ করে দিয়েছি।

আমার এই ছোট গল্পে কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। তবে এবার প্রকাশ্যে নৌকার সমর্থক আমি। তাই আপনাদের কাছে নৌকায় ভোট দেয়ার বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog

বিরাজনীতিকরণের ফাঁদে বিএনপি: তারেক রহমান, ড. ইউনুস ও বিকল্প রাজনীতির সংকট

ফরাসি বিপ্লব ব্যবচ্ছেদ

হাসিনা সরকারের পতনের পরে সেনাবাহিনী প্রধান জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এর আগে তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে অস্বীকার করে হাসিনা সরকারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। তার সামগ্রিক ভুমিকা সুনিপুনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করুন।